ব্যাংকিং খাতে চরম অনিয়ম ও নিয়োগ জালিয়াতি রোধে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে সকল ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে বিনাপরীক্ষায় নির্দিষ্ট এক পটিয়া উপজেলা থেকে হাজার হাজার কর্মকর্তা নিয়োগ ও জাল সনদের চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোনো ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকে বিগত সরকারের সময়ে কয়েক হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যাদের সিংহভাগের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদই ভুয়া। ইসলামী ব্যাংকের এই জালিয়াতির পাশাপাশি সম্প্রতি একটি ব্যাংকের এমডি ও রূপালী ব্যাংকের কয়েকজন কর্মীর অন্যের সনদে চাকরি করার তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় পুরো ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিতে নতুন এই নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
সোমবারে (৭ সেপ্টেম্বর) জারি করা নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ব্যাংকগুলোর এন্ট্রি লেভেলের যেকোনো পদে নিয়োগ দিতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবীদের বেছে নিতে হবে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সনদ জাল প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তথ্যটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘কর্পোরেট মেমোরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে’ রিপোর্ট করতে হবে, যাতে তিনি ভবিষ্যতে আর কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হতে না পারেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাইয়ের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে নিয়োগ পাওয়ার ১ বছরের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সনদ যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। আর বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সনদ যাচাই কার্যক্রম আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এন্ট্রি পদের নিয়োগ, স্থায়ীকরণ, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি, আচরণবিধি এবং অবসরের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে একটি যুগোপযোগী ও মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে এই নীতিমালা নিজ নিজ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদন করিয়ে বাস্তবায়নে বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।
