পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচিয় বিবেচনা করা হয়নি বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। জ্যেষ্ঠতা, উচ্চতর একাডেমিক যোগ্যতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা পাশ কাটিয়ে কেবল রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার যে দাবি উঠেছে, তা তথ্যভিত্তিক নয় বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে প্রশ্নের জবাব দেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর লিখিত বক্তব্যে জানান, বর্তমান সরকারের আমলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের বিধান অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রার্থীর জ্যেষ্ঠতা, উচ্চতর একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণা ও শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদের মূল দায়িত্ব হলো একাডেমিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলা। তাই প্রশাসনিক কার্যক্রমে সিন্ডিকেট, সিনেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের মতো বিধিবদ্ধ সংস্থাসমূহকে কার্যকর রাখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও দুর্নীতি রোধের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ভিসিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উচ্চশিক্ষায় স্বায়ত্তশাসন ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার ভবিষ্যতেও যোগ্যতা ও সততাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।







