২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চট্টগ্রাম মহানগরীর উত্তর ও দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডে চাঁদাবাজির ব্যাপক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলমগীরের বিরুদ্ধে। নিজের রাজনৈতিক পদবিকে পুঁজি করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার এ সিন্ডিকেটে তাঁর ভাই স্বেচ্ছাসেবক দলের পতেঙ্গা থানা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবং পতেঙ্গা থানা ছাত্রদলের সভাপতি রাব্বী হোসেন রিমন সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতা পরিবর্তনের পরপরই আলমগীরের নজর পড়ে পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর খেয়া পারাপার ঘাটে। তিনি ও তাঁর সমর্থকেরা বলপ্রয়োগ করে ঘাটের মূল ইজারাদারদের তাড়িয়ে দিয়ে দখল নেন এবং খাস কালেকশনের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের অভিযানের মুখে ইজারাদারের কাছে ঘাট হস্তান্তরের মুচলেকা দিয়ে পার পান তিনি।
এ ছাড়া পতেঙ্গা ও নেভাল এলাকার ১৬টি পর্যটন হোটেল-মোটেল থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা এককালীন চাদাঁ এবং প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে মাসোহারা ধার্য করার সুনির্দিষ্ট তথ্য এসেছে। টানেল ভিউ, সী-মুন, স্বপ্ন বিলাস, বিচ ভ্যালি ও ডায়মন্ডসহ একাধিক হোটেলের মালিকরা বাধ্য হয়ে এ চাদাঁ পরিশোধ করেছেন বলে জানা গেছে।
একই সঙ্গে স্থানীয় বনেদি ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের চার একর জমি জোরপূর্বক ইজারা নিয়ে মালিককে নামমাত্র অর্থ দিয়ে তৃতীয় পক্ষের কাছে উচ্চমূল্যে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সমুদ্রের ইলিশ শিকারের ‘ফাঁড়’ বা সীমানা নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী থেকে ইজারা নেওয়া মৎস্য প্রজেক্টের অংশীদারদের ভয় দেখিয়ে বের করে দেওয়া এবং কাটগড় এলাকার কন্টেইনার ডিপোর সিরিয়াল বাণিজ্য থেকেও মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
জমির মালিকানা নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিনব পদ্ধতি হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তিগত জায়গায় নিজের বা সহযোগীদের নাম লিখে সাইনবোর্ড ঝোলানোর কৌশল নেন আলমগীর। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী রাশেদ আলীর জায়গায় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে পূবালী ব্যাংকের এক লাখ টাকার চেকের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পতেঙ্গা থানা ছাত্রদল সভাপতি রিমনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
পতেঙ্গা উপকূলীয় সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে সার ও সিমেন্ট পাচার এবং সেখান থেকে ইয়াবা ও মদসহ মাদকদ্রব্য চোরাচালানের সিন্ডিকেটেও আলমগীরের হাত রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী প্রায় তিন হাজার টমটম গাড়ি ও সমুদ্রসৈকতের ৪০০ দোকান থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হয়।
তবে সকল অভিযোগ একবাক্যে অস্বীকার করেছেন নগর কৃষক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে তিনি রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং বর্তমানে প্রতিপক্ষ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু গোষ্ঠী তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলী জানিয়েছেন, পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি চাঁদাবাজি নাকি জমি সংক্রান্ত বিরোধ, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
