কাগজ-কলমে পর্যাপ্ত মজুতের হিসাব দেখানো সত্ত্বেও অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে মাঠপর্যায়ে সারের তীব্র সংকট তৈরি হওয়ায় জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সারের কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত দাম এবং প্রতি ডিলার নিয়োগে লাখ লাখ টাকার লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ তুলে বোরো মৌসুমের আগেই বিতরণ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ৬৮ বিধির আওতায় আয়োজিত আলোচনায় অংশ নিয়ে ১১ দলীয় জোটের এই সংসদ সদস্য এসব বক্তব্য দেন। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, সরকারি খাতায় পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন না এবং দেশের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার মধ্যে ছয়টিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
সংসদে ডিলারশিপ নিয়োগের দুর্নীতি তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রতিটি ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার অনৈতিক লেনদেন হচ্ছে। একই ব্যক্তি পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নামে একাধিক ডিলারশিপ কুক্ষিগত করে কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য চালাচ্ছেন। ফলে নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি বস্তা সারে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে সাধারণ কৃষককে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় সারের অবৈধ মজুত ও পাচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত দিয়ে সরকারি ভর্তুকির সার মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে এবং এর বিনিময়ে দেশে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক প্রবেশ করছে। একই সাথে কুড়িগ্রামের মতো জায়গায় গুদাম ভেঙে সার নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরির ঘটনা তুলে ধরে অতীতের সারের সংকটের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
নিজের কৃষক পরিবারের পরিচয় তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম কেবল আমদানির ওপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেন। একই সাথে আসন্ন বোরো মৌসুমের আগেই ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপিসহ সব ধরনের রাসায়নিক সারের ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।







