ভারতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুকূল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরি হলেই কেবল তিনি ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে চলে আসা দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ব্রিকসের আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে এ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না। কারণ ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য যেভাবে বা যে প্রক্রিয়ায় ঢাকা-নয়াদিল্লি বার্তা ও আমন্ত্রণ আদান-প্রদান করা হয়েছে, তাতে ঢাকা সন্তুষ্ট নয়। তবে উভয় দেশের সুবিধাজনক ও অনুকূল পরিবেশে সরকারপ্রধানের পৃথক দ্বিপক্ষীয় সফর হতে পারে।
মূলত বাংলাদেশ ব্রিকসের পূর্ণাঙ্গ সদস্য না হলেও বর্তমানে আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছে। সেই সুবাদে বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানায় দিল্লি। তবে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে না ডেকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর এ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় আপত্তি তোলে বাংলাদেশ।
এর আগে গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও ভারতের আমন্ত্রণ জানানোর বার্তা ও প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকার তীব্র অসন্তোষের কথা প্রকাশ করেন। তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের মানদণ্ড বজায় রেখেই যেকোনো সফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।







