সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে এই মুহূর্তে নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা বা প্রস্তাব বিবেচনায় নেই বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। সম্প্রতি বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে বাংলাদেশের এই জোটে অন্তর্ভুক্তির গুঞ্জনের মধ্যে ইসলামাবাদ বিষয়টি স্পষ্ট করল।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তিন দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত যোগাযোগ চালু থাকলেও বর্তমানে এই সামরিক জোট সম্প্রসারণের বিষয়ে কোনো আলোচনা চলছে না।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, তিন সদস্যের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা বাকি দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং আক্রান্ত দেশকে সব ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে।
চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর থেকেই এর সম্ভাব্য সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বাংলাদেশের পাশাপাশি কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর নাম সম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে উঠে আসে। তবে পাকিস্তান স্পষ্ট করেছে যে, ঢাকা বা অন্য কোনো দেশের অন্তর্ভুক্তি আপাতত তালিকায় নেই।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, যেকোনো নতুন দেশ অন্তর্ভুক্ত করার আগে বর্তমান সদস্য তিনটিকে তাদের সাংগঠনিক ও কৌশলগত কাঠামো আরও সুসংহত করতে হবে। ভবিষ্যতে পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে একই ভাবাপন্ন অন্য দেশের জন্য এ জোটে যোগ দেওয়ার পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক সৌদি আরব সফরের পর চুক্তিটি বাস্তবায়নের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। যদিও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ইয়েমেনী হামলার জবাবে চুক্তি সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে এখনই কোনো যৌথ সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হয়নি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
