সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বহুগুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এ উদ্যোগকে মেধাভিত্তিক প্রশাসনিক সংস্কার নাকি নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণের নতুন সুযোগ তৈরি—তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য নতুন খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সিভিল প্রশাসনের প্রায় সোয়া ১৩ লাখ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে, যা মোট সরকারি পদের প্রায় ৬৫ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া অত্যন্ত কাঠামোবদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর। উদাহরণস্বরূপ, ভারতে ভাইভা বোর্ডের কাছে প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষার নম্বর গোপন রাখা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে পূর্বনির্ধারিত প্রশ্ন ও স্কোরের ভিত্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়।
সরকারের পক্ষে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, দক্ষ, আধুনিক ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করতেই এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং এর পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে বৈষম্য তৈরির চিন্তা নেই। তবে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক দল ও চাকরিপ্রার্থীরা সরকারের এই যুক্তিতে চরম সংশয় প্রকাশ করেছেন।
বিরোধীদের অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিক বাড়ানোর ফলে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের লেনদেন ও সুপারিশের সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক বিজ্ঞপ্তিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একে ‘নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত’ বলে উল্লেখ করেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ভাইভায় কোনো নির্দিষ্ট মূল্যায়ন কাঠামো বা নিরপেক্ষতা না থাকলে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি লিখিত পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখা প্রার্থীদের পেছনে ফেলে দলীয় ও পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। ফলে প্রশাসনিক সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ কতটুকু ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।







