উচ্চ বেতনের ইলেকট্রনিক শ্রমিকের চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার যুবক মামুন মিয়া (২৫)। পরবর্তীতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে তাঁর পরিবার ও সঙ্গে থাকা এক আহত সহকর্মী নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মামুন নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। সংসারের সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় গত ৭ মে ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে সাড়ে আট লাখ টাকার চুক্তিতে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, রাশিয়ায় পৌঁছানোর মাত্র চার দিন পরই এজেন্সি ও মানবপাচারকারী চক্রটি মামুনসহ প্রায় ৩০ জনের একটি দলকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। এরপর তাঁদের হাতে জোরপূর্বক অস্ত্র তুলে দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মামুনের সঙ্গে থাকা ঝিনাইদহের আহত সহকর্মী রাজন মিয়া জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় মামুন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ওই হামলায় রাজন নিজেও গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরে এসে মামুনের মৃত্যুর খবর স্বজনদের জানান।
একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে চরম শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে মামুনের পরিবার। ঋণ শোধের চাপ এবং দুই সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়ে নিহতের স্ত্রী ও মা সরকারের কাছে মামুনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং প্রতারক এজেন্সির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নান্দাইল মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
