ভোলার কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ইউরিয়া ও টিএসপি সার স্থানীয় কৃষকদের হাতে না পৌঁছে নদী ও উপকূলীয় ঘাট ব্যবহার করে মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। গত দুই মাসে জেলার চরফ্যাশন, তজুমদ্দিন এবং উপকূলীয় হাতিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন নৌপথে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের অভিযানে সারের একাধিক বড় বড় চালান আটক করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, কখনো ট্রাকে, কখনো ট্রলারে আবার কখনো মাছ ধরার বোটে করে কৌশলে এসব সার সীমান্তপারে পাঠানো হচ্ছিল। তবে বিভিন্ন অভিযানে মূলত নৌযানের চালক বা শ্রমিকরা আটক হলেও এই পুরো পাচার চক্রের নেপথ্যে থাকা মূল অর্থদাতা ও বিসিআইসি ডিলারদের ভূমিকা এখনো আড়ালেই থেকে যাচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের জন্য ভোলার বাফার গুদাম থেকে ডিলাররা যেসব সার উত্তোলন করেন, তার একটি বড় অংশ অসৎ ডিলার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে কালোবাজারে চলে যায়। প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে কার্যকর বিক্রয়কেন্দ্র না থাকার সুযোগ নিয়ে কিছু ডিলার অতিরিক্ত লাভের আশায় চোরাকারবারিদের কাছে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন, যা পরবর্তীতে নদীপথে পাচার হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাট থেকে ২৯৩ বস্তা, হাতিয়ার বাংলাবাজার থেকে ৭৬০ বস্তা, দক্ষিণ আইচা থেকে ১৭৫ বস্তা এবং তজুমদ্দিনের মেঘনা নদী থেকে ১৬০ বস্তাসহ ইলিশা ফেরিঘাটে চারটি ট্রাকে থাকা মোট ১,৪২০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড ও পুলিশ অভিযান জোরদার করলেও পাচারকারীরা ঘন ঘন পরিবহনের মাধ্যম ও রুট পরিবর্তন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন সারের কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করলেও মাঠপর্যায়ে সাধারণ কৃষকেরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন ও স্থানীয় কৃষকদের মতে, সার পাচার ও সিন্ডিকেটের কারণে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। নদীপথের এই চোরাচালান বন্ধে শুধু শ্রমিকদের গ্রেফতার না করে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল ও মূল পাচারকারীদের চিহ্নিত করার দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
