বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রপ্তানিকারক দেশ কাতার এখন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গ্যাস কেনার আলোচনা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা, যা কাতার থেকে গ্যাস আমদানি করা বাংলাদেশসহ বহু দেশের জন্য বড় ধরনের অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কাতারের রাস লাফানে অবস্থিত ১৪টি প্রধান এলএনজি উৎপাদন ইউনিটের মধ্যে দুটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই প্ল্যান্টগুলো পুনরায় চালুর উপযোগী করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে, যার কারণে দেশটি বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি ডলারের রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে ঝুঁকিমুক্তভাবে গ্যাস ট্যাংকার পরিচালনা করাও মারাত্মক বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে।
সংকটময় এই পরিস্থিতির কারণে কাতারের সার্বিক গ্যাস রপ্তানি প্রায় ৯৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত বছরের একই সময়ে যেখানে দেশটি ৫০৯টি সারের চালানের মতো বিপুলসংখ্যক এলএনজি কার্গো পাঠাতে পেরেছিল, সেখানে গত ছয় মাসে মাত্র ১৮টি কার্গো রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এতে কাতারের প্রায় দুই হাজার ৪০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশের এমন অচলাবস্থা এবং মার্কিন গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটকে আরও গভীর করতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য আসন্ন দিনগুলোতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
