নাটোর ও পাবনায় দুটি পৃথক মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পর পর ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলোর পেছনের প্রকৃত কারণ ও দেশ অস্থিতিশীল করার কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নাটোর শহরের ঐতিহ্যবাহী হরিশপুর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান মন্দিরে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অরূপ কর্মকার নামের এক হিন্দু কিশোরকে আটক করেছে নাটোর থানা পুলিশ। আটককৃত কিশোরকে পুলিশ হেফাজতে রেখে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে এবং ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতারা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে ঠিক কী কারণে বা কার প্ররোচনায় এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, তা পুলিশের তদন্ত শেষ হলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন ইসকন মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে প্রান্থ কুমার দাস (২৫) নামে এক তরুণের বিরুদ্ধে। তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
মন্দির কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ইসকন মন্দিরের মূল ফটক খোলা পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন প্রান্থ। একপর্যায়ে তিনি সেখানে থাকা দেব-দেবীর প্রতিমা ও মন্দির প্রাঙ্গণের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর শুরু করেন। বিষয়টি টের পেয়ে মন্দিরে উপস্থিত সেবায়েত ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে হাতেনাতে ধরে আটক করে এবং পরে পুলিশে খবর দেয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মন্দির কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পর পর দুইটি মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।







