সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অতিরিক্ত চাপে অস্তিত্বহীন ৭৪টি শিশুর ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) আবুল বাছেরের বিরুদ্ধে। বিডিআরআইএস সিস্টেমে এসব অস্তিত্বহীন শিশুকে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত দেখিয়ে নিবন্ধনগুলো সম্পন্ন করা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত জানাজানি হলে স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় তদন্ত শুরু করে। গত ২৭ আগস্ট অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যায় অভিযুক্ত আবুল বাছের নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চাপ সামলাতে ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে তিনি এই ভুয়া নিবন্ধনগুলো করেন এবং এখন তা বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছেন।
অভিযোগের প্রমাণ মেলায় ডেপুটি রেজিস্ট্রারের পক্ষে মো. লুৎফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বাছেরের নিবন্ধন সহকারীর ক্ষমতা অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ এবং স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে টুমচর ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত আবুল বাছেরের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চিঠি ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।







