মৃত মায়ের সরকারি পাওনার ১০ লাখ টাকা তুলতে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে স্ট্যান্ড রিলিজের আদলে বদলি করা হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফ আহমেদের মায়ের চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুর পর। কল্যাণ তহবিল ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত মোট ১০ লাখ টাকার সরকারি পাওনা উত্তোলনে হিসাব সহকারী নাদিরুল হাসান সবুজ ও অফিস সহকারী মজিবুর রহমান এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘুষ না দিলে ফাইল এগোবে না—এমন হুমকিতে শাহেদ ও তাঁর পরিবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে ‘ঘুষ.সাইট’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রথম অভিযোগটি করেন।
অভিযোগটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গত ৩১ আগস্ট শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন সংশ্লিষ্ট দুই কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও তা প্রকাশ্যে না এনে ৯ সেপ্টেম্বর হঠাৎ অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে মনিকা পারভীনকে ‘জনস্বার্থে’ নান্দাইল উপজেলায় বদলি করা হয়।
তদন্ত চলাকালীন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট প্রধান কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়ায় স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শোকজ নোটিশ দেওয়ার পর থেকেই শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন এবং অভিযোগকারী পরিবারের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। বর্তমানে শাহেদ শরীফ আহমেদ ও তাঁর পরিবারকে অজ্ঞাত স্থান থেকে টেলিফোনে বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা নিয়ে পরিবারটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।
