সিরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠী এসডিএফ (SDF) বিলুপ্ত হওয়ার পরপরই এবার ইরাকের সিনজার অঞ্চলে পিকেকে (PKK) ভিত্তিক ওয়াইবিএস (YBŞ) গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নিজেদের অস্ত্র সমর্পণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের যোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় প্রতিরোধ বাহিনী হলেও তারা সরাসরি পিকেকের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদী নিশ্চিত করেছেন যে, সিনজারের পূর্ণ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে সরাসরি বাগদাদের কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে। পাশাপাশি শর্ত পূরণকারী যোগ্য যোদ্ধাদের সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি বিশেষ কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে কুর্দিদের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ল। তুরস্কের মূল ভূখণ্ডে সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দাদের ধারাবাহিক অভিযানের মুখে পিকেকে আগেই তাদের মূল সক্ষমতা হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল।
অন্যদিকে, ইরানেও পিকেকের শাখা সংগঠন পিজেএকের (PJAK) ওপর তেহরানের চাপ অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার সুযোগে ইরানি বাহিনী (আইআরজিসি) উত্তর ইরাকে অবস্থানরত ইরানবিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে তাদের সামর্থ্য অনেকটাই ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে পশ্চিম বা ইসরায়েল ভবিষ্যতে কুর্দিদের যে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারত, সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
সম্প্রতি সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের প্রধান কুর্দি জোট এসডিএফ-এর বিলুপ্তি এবং এখন ইরাকের সিনজারে পিকেকের অস্ত্র সমর্পণের মধ্য দিয়ে এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ফলে তুরস্ক, সিরিয়া, ইরান ও ইরাক—ঐতিহাসিক এই চার ফ্রন্টেই কুর্দিদের সশস্ত্র সংগ্রামের অধ্যায় কার্যত শেষের মুখে দাঁড়িয়েছে।
