বাংলাদেশ ব্যাংকের মৌখিক নির্দেশে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক একযোগে পদত্যাগ করেছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনার পর তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই পদত্যাগের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদে যে ন্যূনতম স্বতন্ত্র পরিচালক থাকা বাধ্যতামূলক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে সেই আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘিত হয়েছে।
পদত্যাগকারী চার স্বতন্ত্র পরিচালক হলেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শাহীন উল ইসলাম, এনআরবি ব্যাংকের সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ এবং পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ২০ জনের পর্ষদে অন্তত ৩ জন এবং ছোট পর্ষদে কমপক্ষে ২ জন স্বতন্ত্র পরিচালক থাকা বাধ্যতামূলক হলেও এই সিদ্ধান্তের পর ব্যাংকটিতে বর্তমানে মাত্র ১ জন স্বতন্ত্র পরিচালক বহাল রইলেন।
ব্যাংক সূত্র জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এস আলম ও কেডিএস গ্রুপের যৌথ নিয়ন্ত্রণে থাকা আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পুরনো পর্ষদ ভেঙে ৫ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছিল। দায়িত্ব নিয়ে এই স্বতন্ত্র পরিচালকেরা ব্যাংকের বিগত আমলের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনা করেন।
তবে ব্যাংকিং খাতের সংলিষ্টদের অভিযোগ, পরবর্তীতে গত জুলাই মাসে পুরনো শেয়ারধারী কেডিএস গ্রুপের হাতে ব্যাংকটির পুনর্নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর উদ্দেশ্যে ১৪ জন পুরনো পরিচালককে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কেডিএস গ্রুপকে পূর্ণ কর্তৃত্ব পাইয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মৌখিক চাপ দিয়ে এই চার স্বতন্ত্র পরিচালককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুশাসন প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত নীতি ও ভূমিকা নিয়ে আর্থিক খাতে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
