সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের জন্য নতুন একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে সরকার। প্রস্তুতকৃত নতুন খসড়ায় মানহানির অপরাধে সাজার পাশাপাশি কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা বা গুজব ও অপতথ্য ছড়ালে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে আইন সংশোধনের এই উদ্যোগকে আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো দমনমূলক বলে মনে করছেন আইন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিরোধী দল ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের মতে, খসড়ায় মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন ও অপতথ্যের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তার অস্পষ্টতার কারণে আইনের চরম অপব্যবহারের সুযোগ রয়ে যাবে। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানহানির জন্য ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান তীব্র সমালোচনার মুখে সাইবার নিরাপত্তা আইনে রূপান্তর করে শাস্তির মাত্রা কমানো হলেও, বর্তমান সময়ে এসে পুনরায় মানহানি ও গুজবের নামে কারাদণ্ডের শাস্তিমূলক ধারা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাবে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
খসড়া প্রস্তাবনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সতর্ক করেছে যে, এমন পরিবর্তন পাস হলে সাইবার জগৎ সাধারণ মানুষের জন্য নিপীড়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে। গবেষণা সংস্থা টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ২৫ ও ২৬ ধারায় ব্যবহৃত শব্দগুলোর অস্পষ্ট সংজ্ঞার কারণে মতপ্রকাশ ও মুক্ত চিন্তাকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, মানহানির অভিযোগে কারাদণ্ডের বিধান পুনস্থাপন করার প্রশ্নে সরকারের ভেতরেও তীব্র মতভিন্নতা রয়েছে। কিছু প্রভাবশালী মন্ত্রী এই বিধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও, নির্বাচনের আগের প্রতিশ্রুতি ও দলের আগের অবস্থানের পরিপন্থী হওয়ায় অনেকে এর বিরোধিতা করছেন। তাঁদের আশঙ্কা, সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ছাড়া এমন অস্পষ্ট বিধান যুক্ত করা হলে তা মুক্ত সাংবাদিকতা ও বাকস্বাধীনতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার পেছনে অন্যতম হাতিয়ার ছিল ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইন। বর্তমান সরকারও সেই একই নিপীড়নমূলক পথে হাঁটলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে খসড়ায় মামলা করার এখতিয়ার ভুক্তভোগী ও পুলিশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব থাকলেও, নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় সরকারকে অগ্রিম কনটেন্ট ব্লক করার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় নতুন বাধা তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







