ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা পাকিস্তানের কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ভাষণের ছবি এবং ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতার অংশগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ সেশনের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার ছবি দুটি ভেঙে ফেলেন। সে সময় তাঁর সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনায় যুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিএফসি’ গ্রুপের একজন নেতা ছিলেন। তিনি বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও সরবরাহকারী হিসেবে কর্মরত। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক পোস্ট দিয়ে মামুন নিজেকে এই ঘটনার ‘সরাসরি যোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করেন এবং ঘটনার সমর্থন জানান।
ডাকসুর ভাষা আন্দোলন সংক্রান্ত সংগ্রহশালায় ছবি দুটি টানানোর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জিন্নাহর দেওয়া ভাষণে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণার বিষয়টি তুলে ধরতেই ছবিটি সংযোজন করা হয়েছিল বলে ডাকসু সূত্রে জানা যায়। এ নিয়ে সোমবারে সেখানে উপস্থিত হয়ে আবু তৈয়ব হাবিলদার জিন্নাহর ছবি ও লাহোর প্রস্তাবের ফ্রেম ভেঙে ছবি দুটি ছিঁড়ে ফেলেন।
ভাঙচুরের পূর্বে সংবাদমাধ্যমকে আবু তৈয়ব হাবিলদার জানান, ১৯৪৮ সালে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার জিন্নাহর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই শুরু করেছিলেন। তাই সেই অবস্থানের জন্য দায়ী জিন্নাহর ছবি ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না। উল্লেখ্য, তৈয়ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন।
এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ জানান, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বোঝাতেই জিন্নাহর বক্তব্য সংবলিত ছবিটি রাখা হয়েছিল। সেখানে ক্যাপশনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল কিভাবে জিন্নাহ সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং এর ফলে পরবর্তী আন্দোলন বেগবান হয়। প্রেক্ষাপট তুলে ধরার অংশ হিসেবেই ছবিটি রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি।







