সফররত ফরাসি সিনেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল। সোমবার সকালে রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিবর্তিত বাস্তবতা, গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জুলাই সনদ, সংসদীয় কার্যক্রম, জলবায়ু পরিবর্তনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
ফরাসি প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিনেটর গিয়োম শেভ্রিয়েঁ, সিনেটর পিয়ের-আলাঁ রোয়েরোঁ ও সিনেটর অলিভিয়ের হেনো। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে এবং ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ক্রিশ্চিয়ান বেক।
জামায়াতের প্রতিনিধিদলে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।
বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিবর্তন এবং চলমান রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পর্কে তাঁদের মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তাঁরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অর্থবহ ও টেকসই সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় জুলাই সনদের গুরুত্ব এবং এতে উল্লেখিত অঙ্গীকারগুলোকে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক কাঠামোয় রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উঠে আসে। জামায়াতের প্রতিনিধিরা প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের যথাযথ উদ্যোগের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, সংস্কার কার্যক্রম বিলম্বিত করা উচিত নয়।
তাঁরা আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, তা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও শাসনব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিফলিত করা জরুরি। একই সঙ্গে টেকসই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সব রাজনৈতিক পক্ষের সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
বৈঠকে সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়েও আলোচনা হয়। জামায়াতের প্রতিনিধিরা জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা বাড়ানো, বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংসদীয় চর্চা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে নিরসনে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথাও তাঁরা তুলে ধরেন।
এ ছাড়া বিরোধী দলগুলোর চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলন নিয়েও আলোচনা হয়। জামায়াতের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন কর্মসূচি, বিশেষ করে লংমার্চের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ফরাসি সিনেটরদের অবহিত করেন। তাঁরা রাজনৈতিক অধিকার ও দাবি আদায়ের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। জামায়াতের প্রতিনিধিরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের কথা তুলে ধরে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন কর্মসূচি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
অন্যদিকে, ফরাসি সিনেটররা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁরা সংসদীয় গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জামায়াতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।






