উপমহাদেশের মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের প্রধান নেতা মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহর জীবনের একটি অনন্য ও ঐতিহাসিক অধ্যায় জড়িয়ে আছে ‘আশেকে রাসূল’ গাজী ইলমুদ্দীন শহীদের সঙ্গে। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর বই প্রকাশ করার দায়ে প্রকাশক রাজপালকে হত্যার ঘটনায় যখন ইলমুদ্দীনের ফাঁসির আদেশ হয়, তখন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আদালতে তাঁর পক্ষে আইনি লড়াইয়ে নেমেছিলেন জিন্নাহ।
ঘটনার সূত্রপাত ‘রঙ্গিলা রাসূল’ নামক এক চরম বিতর্কিত ও অবমাননাকর পুস্তিকা প্রকাশের মাধ্যমে। লাহোরের হিন্দু প্রকাশক মহাশে রাজপাল এটি প্রকাশ করলে মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আইনি প্রক্রিয়ায় রাজপাল ছাড়া পেয়ে গেলে ১৯২৯ সালের ৬ এপ্রিল লাহোরে ১৯ বছর বয়সী তরুণ ইলমুদ্দীন তাকে হত্যা করেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশ আদালত ইলমুদ্দীনকে গ্রেফতার করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।
লাহোর হাইকোর্টে সেই মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে তরুণ ইলমুদ্দীনের আইনি সহায়তায় এগিয়ে আসেন তখনকার খ্যাতিমান ব্যারিস্টার মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ। জিন্নাহ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের বিশ্বাসযোগ্যতা, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া এবং প্রমাণের অসঙ্গতি নিয়ে জোর আইনি যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি জেনেশুনেই ইলমুদ্দীনের নবীপ্রেম ও গভীর ক্ষোভের প্রেক্ষাপট আদালতে তুলে ধরে ফাঁসির সাজা লঘু করার ওপর জোর দেন।
যদিও জিন্নাহর তীব্র আইনি সংগ্রাম সত্ত্বেও ১৯২৯ সালের ১৭ জুলাই লাহোর হাইকোর্ট সাজা বহাল রাখে এবং ৩১ অক্টোবর ইলমুদ্দীনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তবে ব্রিটিশ শাসনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একজন রাসূলপ্রেমী তরুণের জীবন বাঁচানোর জিন্নাহর এই প্রয়াস মুসলিম ইতিহাসের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।







