১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাবসহ দেশ-বিদেশের সব লেনদেনের নথিপত্র তলব করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের সই করা চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
দুদক জানায়, আসিফ মাহমুদের পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি ক্রয় ও অর্থপাচারসহ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে বিএফআইইউর কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান জানান, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে বিদেশে অর্থপাচারের তথ্য পেতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলআর) পাঠানো হবে।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুবাইয়ে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি ও সুইজারল্যান্ডে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারসহ মোট ১১ হাজার কোটি টাকা সরানোর অভিযোগ অনুসন্ধানে যুক্ত রয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এসব অর্থ হস্তান্তরে তিনি তাঁর আত্মীয়দের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এ ছাড়া পর্তুগালে জমি ক্রয় এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের তথ্যও যাচাই করছে দুদক।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক পদায়ন, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে পার্সেন্টেজ গ্রহণের অভিযোগও নতুন করে যুক্ত হয়েছে। এর আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি ও কেনাকাটা সংক্রান্ত নথিপত্রও তলব করে দুদকে এনে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে কমিশন পরবর্তী চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে দুদক।






