রাশিয়া থেকে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সংবলিত বহুল আলোচিত ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে’ স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউস থেকে বিলটিতে স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে বিলটি আইনে পরিণত হলো এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এটি কার্যকর হবে।
নতুন এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো, ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার ওপর আরোপিত পশ্চিমাদের তেল নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা। ওয়াশিংটনের মতে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যেসব দেশ নিয়মিত রুশ তেল কিনছে, তারা রাশিয়াকে অর্থ জুগিয়ে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করছে। তাই শীর্ষ ৫টি তেলের ক্রেতা দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসাতে পারবে।
তবে আইনে নির্দিষ্ট কোনো ৫টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। শীর্ষ তেল আমদানিকারকদের তালিকায় চীন, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তানের সঙ্গে ভারতের নাম থাকলেও, কোন কোন দেশের ওপর শুল্ক কার্যকর হবে তা নির্ধারণের পুরো স্বাধীনতা রাখা হয়েছে মার্কিন প্রশাসনের হাতে। এতে ভারতের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থেকে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
মার্কিন সিনেটর ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক সদ্য প্রয়াত লিন্ডসে গ্রাহাম এই বিলের মূল প্রণেতা ছিলেন। গত আগস্টে সিনেটে ও চলতি সপ্তাহে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটিতে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেন।
এদিকে মার্কিন আইনের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, দেশটির ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা যে কোনো সাশ্রয়ী মাধ্যম থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে। নয়াদিল্লি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা কেবল দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপরই নয়, বরং পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।






