সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। নতুন পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
এর আগে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন জানিয়েছিলেন, নতুন বেতন কাঠামোর ভেটিং সম্পন্ন করে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রকাশের পর গেজেট জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ এসব গ্রেডে আগের তুলনায় মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ হবে।
অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এই গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হবে। বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে। একইভাবে পেনশনভোগীদের নিট পেনশনও ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির ফলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ ব্যয়ের জন্য বাজেটে আলাদা অর্থের সংস্থান রাখা হবে বলে সরকার জানিয়েছে।
