পুলিশ হেফাজতে ‘ভয়াবহ অমানবিক নির্যাতনের’ শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের শারীরিক অবস্থা দেখে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি চিকিৎসাধীন তানভীরকে দেখার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সরকারের কাছ থেকে সুস্পষ্ট জবাব দাবি করেন।
নাহিদ ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করার জের ধরে তানভীরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও বিএনপির এক নেতার দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তাঁর শরীরে অজ্ঞাত ইনজেকশন প্রয়োগ ও শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ করেন নাহিদ। নির্যাতনের ফলে তানভীরের শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায় এবং গত ১৫ আগস্ট তিনি স্ট্রোক করেন বলে তাঁর আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে।
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তানভীরকে প্রথমে বগুড়া মেডিকেল কলেজ এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। নিম্ন আদালতে বারবার জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে এক বছরের জামিন পেয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নাহিদ ইসলাম লেখেন, জুলাই বিপ্লব-উত্তর বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে এ ধরনের শারীরিক নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রিমান্ডকালে তাঁকে কী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, কোনো ইনজেকশন দেওয়া হয়ে থাকলে তা কী ছিল এবং তানভীরের সম্পূর্ণ মেডিকেল রেকর্ড প্রকাশ করার জন্য তিনি জোর দাবি জানান।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে এনসিপি প্রধান বলেন, এই ঘটনা সরকারের মানবাধিকারবিরোধী অবস্থানেরই চরম বহিঃপ্রকাশ। এই প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধন করে দেশে অবিলম্বে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠনের জোরালো দাবি জানান তিনি।
