মালয়েশিয়াপ্রবাসী স্বামীর উপার্জিত অর্থে পড়াশোনা ও ঢাকায় প্রায় চার বছর সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার পর চাকরি পাওয়ার কয়েক মাসের মাথায় স্বামীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের উনকিলা গ্রামের। ভুক্তভোগী স্বামী সাইফুল ইসলাম (খোকন) স্ত্রী ও তাঁর কাছে গচ্ছিত অর্থ ফেরত পেতে এবং প্রতারণার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে রঘুরামপুর গ্রামের জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে সাইফুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী বিদেশে চলে গেলে স্ত্রীর ইচ্ছেতে তাঁর পড়াশোনা, ঢাকায় কোচিং ও থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ বহন করতে থাকেন সাইফুল। পরবর্তীতে জান্নাত ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে চাকরি পেয়েছেন জানিয়ে ফ্ল্যাট/প্লট কেনার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে প্রবাসীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাইফুলের অভিযোগ, গত জুলাইয়ে স্ত্রীকে না জানিয়ে তিনি দেশে ফিরে ঢাকায় গিয়ে জানতে পারেন স্ত্রী বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। এমনকি মন্ত্রণালয়ে গিয়েও স্ত্রীর সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাননি তিনি। এরপর গ্রামে ফিরে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করার একপর্যায়ে ডাকযোগে স্ত্রীর পাঠানো তালাকের নোটিশ পান ভুক্তভোগী এই প্রবাসী।
অভিযোগের বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা-মাকে পাওয়া না গেলেও ছোট ভাই ফয়সাল জানান, বোনকে সময় না দেওয়ায় সে তালাক দিয়েছে। তবে বোনের পড়াশোনা ও ঢাকায় থাকার সব খরচ যে দুলাভাই সাইফুলই বহন করেছেন, তা তিনি স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে কথা বলতে জান্নাতের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
সুষ্ঠু বিচার ও নিজের পাওনা অর্থ ফেরত পেতে ইতোমধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী সাইফুল ইসলাম।







