সিরাজগঞ্জ শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাবিম হক নীরবের বিরুদ্ধে একাধিক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, ধর্ষণ চেষ্টা, চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ার পর তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। একইসাথে তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার আলীর কাছে লিখিত আবেদনে ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাবিম হক নীরব ১১তম ব্যাচের এক ছাত্রীকে যৌন হেনস্তাসহ জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় এবং পরবর্তীতে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এছাড়া ১২তম ও ১০ম ব্যাচের একাধিক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন প্রস্তাব প্রদান ও হেনস্তার নানাবিধ তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে স্থায়ী অ্যাকাডেমিক বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়েছে।
শুধুমাত্র নারী নির্যাতনই নয়, নীরবের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থনৈতিক দুর্নীতিরও অভিযোগ মিলেছে। মাসের পর মাস হোস্টেলের মিলের টাকা না দিয়ে উল্টো প্রফ পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন তিনি। প্রক্টর ও অধ্যক্ষের সাথে ঘনিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের হল থেকে জোরপূর্বক ডেকে নেওয়া, অন্যায়ভাবে চাপ সৃষ্টি এবং নিয়মিত গালিগালাজ করার অভিযোগ এনেছেন বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার আলী জানান, শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডেকে নিয়মানুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিজের আনুকূল্য দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, শিক্ষকের সাথে শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক সম্পর্ককে অন্যভাবে দেখার সুযোগ নেই এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দলীয়ভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির নীরবকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করেছেন। কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রিক্তিক হাসান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ মেলায় কেন্দ্র থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
