কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার আসামিরা লালমাই ও কোটবাড়ি পাহাড়ি এলাকার চিহ্নিত অপরাধী ও ভয়ংকর কিশোর গ্যাং চক্রের সদস্য। ‘ক্রাইম সেটআপ’ নামের একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, মোটরসাইকেল ছিনতাই, ইভটিজিং ও চাঁদাবাজিসহ নানান অপকর্ম চালিয়ে আসছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রথমে গ্যাং লিডার তুহিন হোসেনকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই চক্রের সদস্য মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), মো. কামরুল হাসান (১৬) এবং মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফাহাদ ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণি এবং সিয়াম আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে পূর্বেও অপরাধের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ২৬ এপ্রিল পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার এক তরুণ সোহাগের ২ লাখ ৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল প্রতারণা করে নিয়ে যায় তুহিন। তবে ভুক্তভোগী থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ সে সময় কেবল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করে, কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। ভুক্তভোগীদের দাবি, ছোটখাটো অপরাধের বিচার ও পুলিশি পদক্ষেপ না পাওয়ায় পরবর্তীতে এই চক্রটি অপ্রতিমের মতো কিশোরকে নৃশংসভাবে হত্যার সাহস পেয়েছে।
কোটবাড়ি ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, গ্যাং লিডার তুহিনের নেতৃত্বে এই বখাটেরা নিয়মিত মোটরসাইকেলের মহড়া, টিকটক ভিডিও তৈরি এবং লালমাই পাহাড় অঞ্চলে মাদক চক্র পরিচালনা করতো। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদকসহ একাধিক কিশোর আটকের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন অপ্রতিমের মা ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নাহিদা বেগম। তৎকালীন সময় থেকেই ওই চক্রের নজর ছিল পরিবারটির ওপর।
ঘটনার তীব্রতায় কোটবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জোরদার হওয়ায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, লালমাই পাহাড় ও কোটবাড়ি এলাকাকে অপরাধমুক্ত করতে কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই জিরো টলারেন্স নীতিতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করা হবে।
