বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জন্য ভারতের ‘আইটেক’ স্কিমের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের খবরের অন্তরালে ব্ল্যাকমেইলিং ও ‘হানিট্র্যাপ’-এর নতুন ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর ভারতের হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই কর্মশালায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে নতুন বিতর্ক ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি ভারতীয় একাধিক চক্রের পাতা ‘হানিট্র্যাপে’ পড়ে বড় অঙ্কের অর্থ ও গোপনীয়তা খুইয়েছেন দেশের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও সেলিব্রিটি। ভুক্তভোগীদের বড় অংশই সামাজিকভাবে মর্যাদা হারানোর ভয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা না করে সাইবার ক্রাইম বিভাগে মৌখিক বা গোপনে অভিযোগ জানিয়েছেন। কর্মকর্তা-ব্যবসায়ীদের পর এবার এই ফাঁদে সাংবাদিকদের যুক্ত করার সুনির্দিষ্ট ছক তৈরি হচ্ছে বলে একটি পক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করছে।
কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগের আড়ালে এ ধরনের ফাঁদ তৈরি করা হলে দেশের গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর তথ্য বা ছবি সংগ্রহ করে ব্ল্যাকমেইল করা হলে ভবিষ্যতে দেশের বস্তুনিষ্ঠ ও স্বাধীন সাংবাদিকতা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা বিনষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হায়দরাবাদের ড. মারি চান্না রেড্ডি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এই কোর্সের যাবতীয় ব্যয় ভারত সরকার বহন করবে। তবে প্রশিক্ষণের আড়ালে যেকোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইলিং বা নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে সফরকারী সাংবাদিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন ও প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করার দাবি উঠেছে।







