বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-র বিতর্কিত অনুষ্ঠান পরিচালনা ও অর্থ বরাদ্দকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি দপ্তরের সহ-সভাপতি এবং সাবেক শাহবাগী অ্যাক্টিভিস্ট ইমতিয়াজ মির্জা (বুলডগ মির্জা নামে পরিচিত)-কে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমটিতে “গুজব ও প্রোপাগান্ডা বিশেষজ্ঞ” হিসেবে নতুন প্রোগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে কড়া সমালোচনা।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে তিনি পুরোপুরি শাহবাগী অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তবে সরকার পতনের পরপরই নিজের খোলস পাল্টে বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ধারণ করেন তিনি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জামায়াত-শিবির ঠেকানোর নানা বিতর্কিত কৌশল ও পরামর্শ দিয়েও তিনি সংবাদের শিরোনাম হন।
পটপরিবর্তনের পর ইমতিয়াজ মির্জা ‘BCAN’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম বা সংগঠন গড়ে তোলেন এবং নিজেই তার প্রধানের পদে বসেন। তবে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ও দলের পুরনো অ্যাক্টিভিস্টদের দাবি, বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা বিএনপির মূল ধারার কোনো অ্যাক্টিভিস্টকে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়নি; বরং নিজের অনুসারীদের পদবণ্টন করতেই এটি গড়ে তোলা হয়।
সর্বশেষ, ‘BCAN’ থেকে বিশেষ সুবিধা করতে না পেরে কাজী জেসিনের সহযোগিতায় বিটিভিতে ইমতিয়াজ মির্জার নতুন প্রোগ্রাম পরিচালনার সুযোগ মেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি রাষ্ট্রীয় ও সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে এমন মানহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অপচয় ও লোপাটের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
উলেখ্য, গত অর্থবছরে বিটিভির মারাত্মক অর্থনৈতিক মন্দার খবর প্রকাশ্যে আসে। ওই অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমটির মোট আয় ছিল মাত্র ৮ কোটি টাকা, যেখানে বাৎসরিক ব্যয় দাঁড়ায় ২৫৪ কোটি টাকায়। ফলে এক অর্থবৎসরেই প্রায় ২৪৬ কোটি টাকার বিপুল নিট লোকসানের মুখ দেখতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। এই অবস্থায় নতুন করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিয়ে ব্যয়বহুল প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।
