ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের একটি উসকানিমূলক ও বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। উজিরপুর বাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় সমর্থকদের প্রকাশ্যে অস্ত্র তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ করা এবং কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটলে তার দায় নেওয়ার আশ্বাস সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনগণের মাঝে চরম আতঙ্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে স্পষ্ট ভাষায় তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব।” দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে একজন জনপ্রতিনিধির মুখে প্রকাশ্যে এমন সহিংস ও অপরাধমূলক বক্তব্য আসায় এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
তবে বক্তব্যটির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তাঁর বক্তব্য এডিট ও বিকৃত করা হয়েছে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও প্রতিপক্ষ সুবিধা হাসিল করতেই এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
ঘটনাটি নজরে আসার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান জানান, ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও বক্তব্যটির সত্যতা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ভিডিওচিত্রটি বিশ্লেষণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
