দেশের চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও এই কার্ডের আওতায় আসবেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও পর্যায়ভিত্তিক বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পেতে কাউকে কোনো ঘুষ দিতে হবে না। একদম হতদরিদ্র পরিবারগুলো প্রথম ধাপে এই কার্ড পাবেন। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের দেওয়া হবে। এমনকি সরকারের চার বছরের শেষ সময়ে গিয়ে মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারও এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতাভুক্ত হবে।
সরকারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের মেয়াদ এখনো অল্প হলেও বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে কাজ চলছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, পাঁচ বছর পূর্ণ হলে দল নির্বিশেষে জনগণের কাছে গিয়ে সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক বন্যায় বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া সড়কটি ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার জন্য কয়েকশ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এর কাজ শেষ করা হবে।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দল ক্ষমতায় এসেছে এবং দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের আইন ও বিধি অনুযায়ী চাকরি, বৈধ ডিলারশিপসহ সার্বিক মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হবে।
