ভারতের নির্বাচন কমিশনে (ইসিআই) শীর্ষ পর্যায়ে মতবিরোধের জেরে স্থবির হয়ে পড়েছে ১৮ বছর বয়সি তরুণ বা ‘জেন-জি’দের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বার্ষিক সংক্ষিপ্ত হালনাগাদ (এসএসআর) প্রক্রিয়া। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় নির্ধারিত মে-জুন মাসের সময়সীমা পার হয়ে গেলেও ২০২৬-২৭ সালের এই কার্যক্রম এখনো শুরু হতে পারেনি। ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
কমিশনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কেবল এই এক ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানা যায়, দুই নির্বাচন কমিশনার সান্ধু ও জোশী ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের আগস্টের মধ্যে অন্তত ১৪ বার সিইসির বিভিন্ন একক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানান। সম্প্রতি ২০২৫ সালে বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় হালনাগাদ (এসআইআর) শুরুর পর থেকে দশকের পুরোনো নিয়ম ভঙ্গ করে বার্ষিক হালনাগাদ স্থগিত রাখা হয়, যার তীব্র বিরোধিতা করে তা ফের চালুর তাগিদ দেন ওই দুই কমিশনার।
কমিশনের নিজস্ব ভোটার তালিকা ম্যানুয়ালের কথা উল্লেখ করে সান্ধু ও জোশী যুক্তি দেন যে, বিশেষ নিবিড় হালনাগাদ কোনোভাবেই বার্ষিক এসএসআর প্রথাকে বাতিল বা প্রতিস্থাপিত করতে পারে না। ভোটার তালিকায় নতুন যোগ্য তরুণদের যুক্ত করতে এই প্রথা অপরিহার্য। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে এই মতবিরোধ চরম আকার ধারণ করলে সিইসি শেষ পর্যন্ত আইনি মতামত নিতে বাধ্য হন, যদিও অপর দুই কমিশনার এসএসআর চালুর পক্ষে তাঁদের অবস্থানে অনড় থাকেন।
সাধারণত প্রতি বছর ১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১ জুলাই ও ১ অক্টোবর—এই চারটি নির্দিষ্ট যোগ্যতার তারিখে তরুণরা ভোটার হওয়ার সুযোগ পান। মে মাসের শেষে এসএসআর শুরুর ঘোষণার পর ২-৩ মাস ধরে প্রাক-হালনাগাদ কার্যক্রম চলে, যাতে আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে চূড়ান্ত সচিত্র ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যায়। কিন্তু ২০২৬-২৭ চক্রের শুরুর ঘোষণাই আটকে থাকায় উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব ও বিহারসহ একাধিক রাজ্যে হাজার হাজার যোগ্য জেন-জি নাগরিক ভোটার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা ২০২৭ সালের রাজ্য নির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসিআই-এর এই নজিরবিহীন প্রশাসনিক স্নায়ুযুদ্ধ এখন নির্বাচন কমিশনের নিয়মিত দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডকেও স্থবির করে ফেলেছে। তিন কমিশনার একসঙ্গে স্বাক্ষর না করায় প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা ও উপ-নির্বাচন কমিশনারের বার্ষিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন প্রতিবেদন আটকে আছে, ফলে পদোন্নতি ও বদলিজনিত প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ছে। এমনকি প্রতিবেদন তৈরি করা ইকোনমিক টাইমসের নিজস্ব সাংবাদিকও জানান, ‘নামের অমিল’ থাকার অভিযোগে এই নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ার সময় তাঁকেও নির্বাচন কমিশন থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
