ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আগামী শনিবারের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির প্রধান অভিজিৎ দীপকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিইসি পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে এই আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করা হবে। খবর আল জাজিরার।
ভোটার তালিকায় নজিরবিহীন কারচুপি ও জালিয়াতি সংক্রান্ত গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের জন্য এই আলটিমেটাম দেয় সিজেপি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে অভিজিৎ দীপকে জানান, পদত্যাগ না এলে মুম্বাই থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে ভারতের সব বড় বড় শহরে এ আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) বাড়তি সুবিধা দিতেই ভোটার তালিকায় ব্যাপক ম্যানিপুলেশন করা হয়েছে।
সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানা যায়, বিগত ১০ মাসে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪ বার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে লিখিত আপত্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এ খবর প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসও রাজপথে নেমেছে। শুক্রবার দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের তাৎক্ষণিক গ্রেফতার, বরখাস্ত এবং তাঁর মেয়াদে ভোটার তালিকায় করা সমস্ত পরিবর্তনের স্বাধীন নিরপেক্ষ পর্যালোচনার (স্বাধীন রিভিউ) দাবি জানিয়েছে দলটি। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, বিজেপিকে সুবিধা দিতে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে গত মে মাসে ইনস্টাগ্রামে আত্মপ্রকাশ করে এই তরুণ নির্ভর দল সিজেপি। দেশটির বেকার যুবকদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পর থেকে গঠিত এই সংগঠনটি ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় প্রতিবাদী কণ্ঠ হয়ে উঠেছে। সিজেপির জোরালো আন্দোলনের মুখে এর আগে মোদি সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।
