বাংলাদেশের আকাশসীমা অতিক্রম করেছে ভারতের বিমানবাহিনীর একটি অতীব সংবেদনশীল কৌশলগত গোয়েন্দা বিমান। গতকাল ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মিয়ানমারের রাজধানী নাইপিদো থেকে ভারতের দিল্লিতে ফেরার পথে বিমানটি বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহার করে। বোম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল ৫০০০ সিগনিট (Bombardier Global 5000 SIGINT) মডেলের এই বিশেষ বিমানটি মূলত ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর (RAW) নিয়ন্ত্রণাধীন অ্যারোনেটিক্যাল রিসার্চ সেন্টার (ARC) পরিচালনা করে থাকে। এটি প্রায় ৪৫ হাজার ফুট ওপর দিয়ে বাংলাদেশের আকাশসীমা অতিক্রম করে নিজের গন্তব্যে পৌঁছায়।
উচ্চপ্রযুক্তির এই নজরদারি বিমানে ব্যবহৃত হয়েছে ইসরায়েলি ডিফেন্স কোম্পানি ‘ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ’ (IAI) এবং এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘এলটা সিস্টেমস’-এর তৈরি অত্যাধুনিক সামরিক ও ট্র্যাকিং প্রযুক্তি। ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা বিশেষভাবে রূপান্তর করা এই যুদ্ধযানটি আকাশ থেকে গভীর ভূমিতে সামরিক সরঞ্জাম বা যোগাযোগ নজরদারির কাজে বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত।
বোম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল ৫০০০ সিগনিট বিমানের মূল কাজ মূলত ‘সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স’ (SIGINT) সংগ্রহ করা। অত্যন্ত উঁচুতে উড্ডয়ন সক্ষম এই বিমান দূরপাল্লার যেকোনো শত্রুপক্ষ বা নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের রেডিও যোগাযোগ, স্যাটেলাইট বার্তা, সামরিক রাডার সিগন্যাল এবং ইলেকট্রনিক তরঙ্গ হ্যাক ও ইন্টারসেপ্ট করতে পারে। শত্রুপক্ষের সামরিক নেটওয়ার্কের ওপর নজরদারি চালানো এবং যুদ্ধক্ষেত্রে রিয়েল-টাইম ইলেকট্রনিক তথ্য সরবরাহ করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দিক থেকে এটি কেবল উচ্চমাত্রার বার্তা আড়িপাতাই করে না, বরং প্রতিপক্ষের ডিফেন্স সিস্টেম বা রাডার নেটওয়ার্কের ভৌগোলিক অবস্থান নিখুঁতভাবে চিহ্নিত (Electronic Mapping) করতে সক্ষম। দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপথে অত্যন্ত উঁচুতে এই বিশেষ গোয়েন্দা বিমানের উপস্থিতি এবং বাংলাদেশের ওপর দিয়ে উড্ডয়নের বিষয়টি সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
