যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র সামরিক ও কূটনৈতিক সংঘাতের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে সাত দিনের একটি রূপরেখা প্রস্তাব করেছে ইরান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এই পরিকল্পনা পাঠিয়েছে তেহরান। এতে গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার শর্তগুলো বাস্তবায়নের নতুন প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পূর্বের সমঝোতায় ৬০ দিনের সময়সীমা থাকলেও এবার মাত্র সাত দিনের স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, প্রথম সাত দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের জব্দ করা অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা, ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং নৌ অবরোধ অপসারণের শর্ত পূরণ করতে হবে। এর বিনিময়ে গাজা ও লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে সংঘাত অবসানের পরিবেশ তৈরি করা হবে।
পরিকল্পনার শেষ দিনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সর্বসাধারণ ও বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার পাশাপাশি পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের মূল ধমনি হওয়ায় এখানে স্বাভাবিকতা ফেরা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমঝোতামূলক আলোচনা করলেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরনো শর্তে এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করতে অনাগ্রহ দেখাবে, ফলে পরিস্থিতির দ্রুত নিষ্পত্তির পথ এখনো চ্যালেঞ্জিং রয়ে গেছে।
