ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলেও নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় তেহরান। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পাশাপাশি সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত নিরসনে হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ইরান মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ কমাতে চাইছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হোক।
পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় নয়
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্তগুলো মেনে নিলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত। তবে নিজেদের পারমাণবিক অধিকার, বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার থেকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানি ওই কর্মকর্তা।
এ ছাড়া ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিও তেহরান মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এই মাত্রা বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি হলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য সাধারণত প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন।
তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
