আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার পশ্চিমবঙ্গের বাজারে যাচ্ছে না বাংলাদেশের বিখ্যাত ইলিশ। প্রতি বছর উৎসবের মৌসুমে বিশেষ ছাড়পত্রের মাধ্যমে ভারতে ইলিশ পাঠানো হলেও, এ বছর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইলিশ রপ্তানির কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ভারত থেকে নতুন করে ইলিশ আমদানির অনুমোদন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইকোনমিক টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ সেপ্টেম্বরের এক জরুরি নির্দেশনার মাধ্যমে আগের ইলিশ আমদানির অনুমোদনগুলো বাতিল করা হয়েছে। ফলে দুই দেশের প্রধান বাণিজ্যস্থল পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ইলিশের আদান-প্রদান ও বাণিজ্য কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেছে।
দীর্ঘদিন পর ২০১৯ সালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমিত আকারে ইলিশ রপ্তানি পুনরায় চালুর পর ২০২০ সালে ১,৮৫০ টন, ২০২১ সালে ১,২০০ টন এবং ২০২২ সালে ১,৩০০ টন ইলিশ ভারতে পাঠানো হয়েছিল। তবে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তা কমে যথাক্রমে ৫৮৭ ও ৫৭৭ টনে দাঁড়ায় এবং গত বছর এই রপ্তানির পরিমাণ আরও নেমে মাত্র ১৫০ টনে পৌঁছায়। এবার চূড়ান্তভাবে কোনো অনুমোদন না আসায় পশ্চিমবঙ্গের আমদানিকারকদের মধ্যে গভীর হতাশা দেখা দিয়েছে।
ভারতের ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ জানান, সাধারণত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই বাংলাদেশ থেকে ইলিশ পাঠনোর ঘোষণা আসে। তবে আগামী ৭ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে ইলিশের প্রজনন মৌসুমের কারণে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। ফলে এবারের পূজায় বাংলাদেশ থেকে নতুন করে ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
উৎসবের মরসুমে বাংলাদেশের পদের চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। যদিও চলতি বছর দুই দেশের ইলিশ বাণিজ্যে ভিন্ন চিত্র দেখা গিয়েছিল, যেখানে গত দুই মাসে ভারতের গুজরাটের ভারুচ ও পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া থেকে ৫০০ টনের বেশি ইলিশ পেট্রাপোল হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। কিন্তু পদ্মার রুপালী ইলিশের স্বাদ থেকে এবার পশ্চিমবঙ্গের পুজোপ্রেমীদের বঞ্চিতই থাকতে হচ্ছে।
