কোনো প্রকার নির্বাচন ছাড়াই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের কে-৭৮ ব্যাচের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে ‘ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইডিএ) নামের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার রাতে এই কমিটির তালিকা প্রকাশের পর সাধারণ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশিত কমিটির অন্তত ১২ জন পদধারী চিকিৎসকের নাম ঢামেক শাখা ছাত্রলীগের বিগত কমিটিতে ছিল বলে তথ্য উঠে এসেছে।
নতুন ঘোষিত এই কমিটিতে ডা. মো. রুহুল আমিন বিশ্বাসকে সভাপতি এবং ডা. ইফতেখার আলম ইফতিকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া সহসভাপতি ডা. তাজিয়া ইসলাম তৈশী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আনিসুজ্জামান শিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. তাহসিন রহমান, অর্থ সম্পাদক ডা. তৌফিকুল ইসলাম আলভী, দপ্তর সম্পাদক ডা. মহিউদ্দীন আলমগীর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ডা. মো. শাহারুল ইসলাম সাকিব, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ডা. পুলহ রায় এবং যোগাযোগ সম্পাদক হিসেবে ডা. মির্জা সাইফুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়।
ঢামেক শাখা ছাত্রলীগের ২০২২ সালের প্রকাশিত কমিটির নথির সাথে মিলিয়ে দেখা যায়, নতুন আইডিএ কমিটির সহসভাপতি তাজিয়া ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান, অর্থ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক পুলহ রায়, যোগাযোগ সম্পাদক সাইফুর রহমান এবং প্রচার সম্পাদক শাহারুল ইসলাম সাকিবসহ অন্তত ১২ জন সদস্য ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
বিতর্কিত এই কমিটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর নানা অভিযোগ তুলেছেন তাদেরই সহপাঠীরা। নবগঠিত কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কমিউনিটি মেডিসিনের স্টাডি ট্যুরের কয়েক লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান শিপনের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢামেকের বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনের প্রতিনিধি কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হচ্ছিল। কিন্তু কে-৭৮ ব্যাচের ক্ষেত্রে সাধারণ চিকিৎসকদের কোনো মতামত না নিয়ে এবং কোনো নির্বাচন ছাড়াই রাতে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। এমনকি সাধারণ ইন্টার্নদের না জানিয়েই সংগঠনের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমান এই পুরো প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক সুবিধাভোগী এবং ছাত্রদলের মদদপুষ্ট হয়ে করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এবং বক্তব্য নিতে নতুন কমিটির সভাপতি ডা. রুহুল আমিন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক ডা. ইফতেখার আলম ইফতির ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।
