বৈশ্বিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। জ্বালানির আকাশচুম্বী মূল্যের ধাক্কায় দেশটিতে প্রতি লিটার পেট্রোল প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ৩৮৯ দশমিক ১৪ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।
উদ্ভূত সংকট মোকাবিলা এবং নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বস্তি দিতে বাংলাদেশের ‘ফুয়েল পাস’-এর আদলে ‘ফুয়েল রিলিফ’ কর্মসূচি চালু করেছে পাকিস্তান সরকার। এ সুবিধা পেতে দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৯ লাখ ১০ হাজার নাগরিক সফলভাবে নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শাজা ফাতিমা খাজা সরকারের এই বিশেষ অর্থনৈতিক উদ্যোগের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ফুয়েল রিলিফ ব্যবস্থার আওতায় এখন পর্যন্ত ৬১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি ডিজিটাল টোকেন তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টোকেন ব্যবহার করে সাধারণ নাগরিকরা নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে ভর্তুকিমূল্যে পেট্রোল ক্রয় করেছেন।
জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নীতিমালায় কিছুটা ছাড় দিয়েছে প্রশাসন। মোটরসাইকেল, রিকশা ও তিন চাকার চালকদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন সর্বোচ্চ পাঁচ লিটার তেল ক্রয়ের যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভাড়া করা মোটরসাইকেল বা রিকশা চালকদের ক্ষেত্রেও যানবাহনের মালিকানার শর্ত শিথিল করা হয়েছে।
সরকারের এই ফুয়েল রিলিফ সেবার আওতায় মূলত মোটরসাইকেল, থ্রি-হুইলার অটোরিকশা এবং সর্বোচ্চ ৮০০ সিসি ক্ষমতার ছোট ব্যক্তিগত গাড়ি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পুরো বিতরণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাটি কিউআর কোড ও অনলাইন টোকেনভিত্তিক ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে।
চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে সফলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর পাকিস্তানজুড়ে এই ভর্তুকিমূল্যের ‘ফুয়েল রিলিফ’ সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে সরকার।
