রাজধানীর মিরপুর-১-এর ঐতিহ্যবাহী মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে’ রাতের আঁধারে হামলা, হাত-পা বেঁধে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি, ভাঙচুর ও নজিরবিহীন লুটপাটের ঘটনায় জড়িত সমমনা দোকানদার সমিতির সভাপতি শাহ আলমসহ এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইতিপূর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি দাবি করেছিলেন, মিরপুরের এই ক্লিনিকে হামলার পেছনে জামায়াত কিংবা আওয়ামী লীগের কোনো ইন্ধন আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা দরকার। তবে গ্রেপ্তারকৃত সমমনা দোকানদার সমিতির সভাপতি শাহ আলম মূলত সেই অভিযোগকারী এমপি তুলিরই ‘ঘনিষ্ঠ বা কাছের লোক’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘুরতে শুরু করেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, শাহ আলী থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে শাহ আলমসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সাথে লুটপাট হওয়া মালামালের মধ্যে দুই ট্রাক সরঞ্জাম উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে দুই শতাধিক সশস্ত্র ও মুখোশধারী ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে তাণ্ডব চালায়। তারা ভবনের দুই নিরাপত্তাকর্মীকে বেঁধে রেখে কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, মূল্যবান ওষুধ, টিকা ও নগদ টাকা লুট করে। পরবর্তীতে ভারী সরঞ্জাম এনে প্রতিষ্ঠানটির একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ১৯৭৪ সাল থেকে সাধারণ মানুষের সেবা দিয়ে আসা এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব রুখতে পুলিশের অবহেলা ছিল কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি কিংবা অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির সরাসরি বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
