চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে নিয়োগপত্রের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত বঞ্চিত প্রার্থীরা। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তাঁরা শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন।
নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনরত প্রার্থীরা ‘সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্র বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ’ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে এই কর্মসূচির ডাক দেন। প্ল্যাটফর্মটির দায়িত্বশীলদের দাবি, ২০২৫ ব্যাচে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই পুলিশ ভেরিফিকেশনের দোহাই দিয়ে অন্তত আড়াই হাজার প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের মতে, দীর্ঘ আট মাস বেকার থাকার পর শুধু ভেরিফিকেশনের নামে যোগ্যদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা স্পষ্ট করেন—যদি ফৌজদারি অপরাধ, রাষ্ট্রদ্রোহ বা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ না থাকে, তবে সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী সুপারিশপ্রাপ্ত সব যোগ্য প্রার্থীকে অবিলম্বে নিয়োগ দিতে হবে। তা ছাড়া নিয়োগ প্রদান নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জেলা শিক্ষা অফিসের মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা দৃশ্যমান।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে প্রার্থীরা ঘোষণা দেন, নতুন করে ভেরিফিকেশনের নাটক বা সময়ক্ষেপণ না করে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নিয়োগপত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে এবং আগামী ১ অক্টোবর থেকে সব যোগ্য প্রার্থীর একযোগে যোগদানের সুযোগ দিতে হবে। এ সময় দাবি আদায় ও সংকট সমাধানে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে গিয়েছেন এবং দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
