রংপুরের পীরগাছায় নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার অর্থ বাণিজ্য ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশের আগেই গোপন তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। তালিকায় স্থান পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রীসহ দলটির কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রংপুর জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তির পর নয়টি ইউনিয়নের বিপরীতে চূড়ান্ত তালিকার খসড়া তৈরি হয়। এর মধ্যে পীরগাছা সদর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙার স্ত্রী সুলতানা ফেরদৌসী এবং তাম্বুলপুর ইউনিয়নে সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেজের স্ত্রী সুইটির নাম রয়েছে। ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে উপজেলা সম্পাদকের স্ত্রীর আবেদন চূড়ান্ত করার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের দাবি, সাতটি ইউনিয়নে ডিলারশিপ পাইয়ে দিতে ১৫ লাখ থেকে ২৭ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা হয়েছে, যার মোট অঙ্ক দাঁড়ায় ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ ২৭ লাখ টাকা উৎকোচ দিয়ে কান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানের নাম তালিকায় আসার বিষয়টি এখন টক অব দ্য টাউন। এছাড়া অনিয়মের অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাজারে তোলপাড় চলছে।
সার ডিলার নিয়োগের অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হওয়ায় জেলা বিএনপির মিডিয়া সেল প্রতিনিধি জিয়াউর রহমানকে উল্টো কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাদ পড়া যোগ্য প্রার্থীরা অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়ে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেজ অনিয়ম অস্বীকার করলেও স্ত্রীর আবেদনের কথা স্বীকার করেছেন। আর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব পরিতোষ চক্রবর্তী বিতর্কিত মন্তব্য করে জানান, দীর্ঘদিন দল করা নেতাদের স্ত্রী-কন্যারা ডিলারশিপ পাওয়া স্বাভাবিক এবং চা-মিষ্টি খাওয়ালে দোষের কিছু নেই। পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়েদ ইমরুল মুজাক্কিন জানান, স্বচ্ছতার সাথে প্রতি ইউনিয়নে তিনজনের তালিকা পাঠানো হয়েছে এবং কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাকেই জবাব দিতে হবে।
