৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্তদের গেজেট থেকে বাদ পড়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সরকারি চাকরি বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে কারও প্রতি কোনো প্রকার বৈষম্য করা হবে না। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি সংবিধিবদ্ধ ও নিয়মিত বাধ্যতামূলক কাজ, তাই প্রার্থী ও দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাদ পড়া প্রার্থীদের সংখ্যার সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি জানান, পিএসসি থেকে মূলত ৬৬৫ জনের সুপারিশ এসেছিল। এর মধ্যে ৩ জন প্রয়োজনীয় সনদ জমা দিতে না পারায় এবং ৮ জন বাধ্যতামূলক মেডিকেল টেস্টে অনুপস্থিত থাকায় প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ পড়েন। ফলে প্রজ্ঞাপনের আওতায় থাকা প্রকৃত প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৫৭ জন, যার মধ্যে ৬১১ জনের প্রথম ধাপে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।
অবশিষ্ট ৪৬ জন প্রার্থীর গেজেট না হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি চূড়ান্ত বাদ পড়া নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক পোস্ট ও ক্ষোভ প্রকাশকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি জানান, অনেকেই আগাম ধারণা করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন। যেমন—জনৈক প্রার্থী ফেসবুকে হতাশাজনক স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যিনি অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নিষিদ্ধ সংগঠনের পদধারী নেতা ছিলেন। তিনি ভুলবশত নিজেকে স্থায়ীভাবে বঞ্চিত ভেবে নিয়েছেন। ভেরিফিকেশনে গুরুতর অপরাধের প্রমাণ বা সাজা না থাকলে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর ভেরিফিকেশন-বিরোধী পোস্টের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভেরিফিকেশন একটি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, যা সরকারি চাকরির ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রয়োজন। আগামী সোমবার প্রজ্ঞাপন জারির আরেকটি নির্ধারিত দিন রয়েছে। ছুটির দিন শনিবারেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও ক্যাবিনেট সচিবালয় বাকি ৪৬ জনের ভেরিফিকেশন ও নথি যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করবেন। ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন তিনি।
