রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর, পল্লবী ও বাউনিয়া এলাকায় আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে ‘ফোর স্টার গ্রুপ’ নামের একটি অপরাধী চক্র। বিদেশে আত্মগোপনে থাকা চার সন্ত্রাসী দূর থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছে এই গ্যাং। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর মধ্যে সবচেয়ে দুর্ধর্ষ বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও পল্লবী থানা বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী মফিজুর রহমান মামুন।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায় মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ‘ফোর স্টার গ্রুপ’-এর নিয়ন্ত্রক বিএনপি নেতা মফিজুর রহমান মামুনের মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নাম এসেছে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের। প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি মদদে মামুন বাহিনী পল্লবী, মিরপুর-১২, সাগুফতা ও বাউনিয়া এলাকার ঝুট ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মাদক ও জমি দখলের পুরো অপরাধ সাম্রাজ্য এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতার সুবাদে এলাকায় মামুনের অনুসারীরা পোস্টার-ব্যানারে তাঁর ছবি ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাবও বজায় রাখছে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে মামুনের নির্দেশে তাঁর অপরাধী দলটি পল্লবী, মিরপুর-১২, সাগুফতা ও বাউনিয়া এলাকার চাঁদাবাজি, গার্মেন্টস ঝুট ব্যবসা, জোরপূর্বক জমি দখল এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। মামুন বিদেশে থাকলেও তাঁর আপন দুই ভাই দেশে অবস্থান করে বাহিনীর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদাবাজি ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যার পেছনেও মামুন বাহিনীর সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। বিদেশে বসেই মামুন ওই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে কিবরিয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে মামুন বাহিনীর দুই প্রভাবশালী সদস্য জনি ও রোকন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি নেতা মফিজুর রহমান মামুনের বিরুদ্ধে পল্লবীসহ বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, হত্যা, মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং ডাকাতির অভিযোগে অন্তত ২৭টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর নামে ১৫টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং দুটি মামলায় সাজা পরোয়ানা ঝুলছে। সম্প্রতি পল্লবী থানা বিএনপির সভাপতি হওয়ার লক্ষ্যে ব্যানার-ফেস্টুনে কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি ব্যবহার করে তাঁর অনুসারীদের বিশাল শোডাউন করতে দেখা গেছে।
এমনকি মিরপুরের বিহারী পট্টিতে মৃতদেহের গোসলখানা নির্মাণকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী ঘটনেও প্রকাশ্যে এসেছে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সন্ত্রাসী বাহিনীর তাণ্ডব। জানা যায়, ওই এলাকায় একটি গোসলখানা নির্মাণের সময়ে আমিনুল হকের ক্যাডার বাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর অতর্কিত গুলি বর্ষণ করে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে দেখা যায়, ওই গোসলখানাটি নির্মিত হয়েছিল স্থানীয় সাবেক জামায়াত এমপি কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেনের অর্থায়নে আনা বরাদ্দের টাকায়। অথচ ভিত্তিহীনভাবে প্রকল্পটির সম্পূর্ণ অবদান নিজের নামে দাবি করে ফলক উন্মোচনের চেষ্টা চালান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। জামায়াত নেতার অর্থায়নের কাজ নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
