রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ হাসপাতালে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় কথিত মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান। তিনি বলেছেন, জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি আরমান বলেন, হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া শুটার লেলিন এবং কথিত মূল পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী মোহাম্মদ হানিফ এখনো গ্রেপ্তার হননি। তিনি আরও বলেন, দুই সংসদ সদস্যের নামও তিনি উল্লেখ করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ঘর সফর করে, তওবা করে এসেছি। মানুষের অধিকার যারা হরণ করেছে, তাদের বিচারের জন্য যা প্রয়োজন, তাই করব। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে এসেছি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই করব।’
রাড্ডা হাসপাতালের ঘটনাকে বৃহত্তর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে আরমান বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত কথিত সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাঁর মতে, রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারের ঘটনা শুধু মিরপুরের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও একটি উদাহরণ।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা গেলে দেশের দখলবাজ, চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আন্দোলনে সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের দাবি
হাসপাতালটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়ে আরমান বলেন, সরকারি ও আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়ে এখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ঢাকা-১৪ আসনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগের তথ্য সংসদ সদস্যদের কাছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সংসদে তুলে ধরা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি সেলিম উদ্দিনের
প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালটি আগের চেয়ে আরও উন্নত ও আধুনিকভাবে পুনর্নির্মাণের আহ্বান জানান তিনি।
সেলিম উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে হামলার মতো ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর এবং দেশের ইতিহাসে এটি একটি নিন্দনীয় ঘটনা। তাঁর ভাষ্য, চিকিৎসাসেবা ও মা-শিশুস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, তরুণদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার পরও যদি শিশুদের টিকা, গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয়, তাহলে সেই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য কী ছিল।
তদন্তে গড়িমসি হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, তদন্তের নামে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ বা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে নামবেন। সরকারের পক্ষ থেকে তদন্তে কোনো দুর্বলতা দেখা দিলে মিরপুরবাসীর পাশাপাশি ঢাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।
প্রয়োজনে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, তদন্তে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মন্ত্রীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও পদত্যাগ করে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা
হাসপাতাল পুনর্নির্মাণ প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ইতোমধ্যে ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রয়োজন হলে ঢাকা মহানগরীর জনগণের সহযোগিতায় আরও অর্থ সংগ্রহ করে হাসপাতালটিকে আধুনিক মা ও শিশুচিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, হামলায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাসপাতালটি পরিদর্শন করে ডা. শফিকুর রহমান পুনর্নির্মাণে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দিন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার এবং মহানগরীর নেতাদের মধ্যে জামাল উদ্দিন, নাসির উদ্দীন, ডা. মঈন উদ্দীন ও জিএম হাফিজুর রহমান।
