বরগুনায় চাঁদাবাজির একটি মামলায় গ্রেপ্তার দৈনিক কালবেলার বরগুনা প্রতিনিধি মো. আসাদুল হক সবুজকে দুই হাত পেছনে এনে হাতকড়া পরানো এবং জোরপূর্বক ‘ডোপ টেস্ট’ করানোর ঘটনায় তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশি এই পদক্ষেপকে অমানবিক, অপমানজনক এবং একজন পেশাদার সংবাদকর্মীকে সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও ভুক্তভোগীর পরিবার।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে বরগুনা জেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের ভূতমারা এলাকার নিজ বাড়ির সামনে থেকে সাংবাদিক আসাদুল হককে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) তাঁকে বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১–এ হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে সোপর্দ করার আগে বরগুনা সদর থানা পুলিশ এই সাংবাদিককে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে জোরপূর্বক ডোপ টেস্ট করায়। তবে চিকিৎসকের দেওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাঁর শরীরে কোনো ধরনের মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, যে চাঁদাবাজির মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তার এজাহারে মাদক সেবন, বহন বা মাদক-সংক্রান্ত দূরতম কোনো অভিযোগও ছিল না।
অপ্রাসঙ্গিক মামলায় ডোপ টেস্ট করানো এবং আদালতে নেওয়ার সময় দুই হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরানোর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন বরগুনার গণমাধ্যমকর্মীরা। আসাদুলের পরিবারের অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এভাবে হয়রানি ও ডোপ টেস্ট করানোর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল সামাজিকভাবে তাঁর সম্মানহানি করা। পুলিশি এই স্বেচ্ছাচারিতা ও হয়রানির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।







