পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) নির্মম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদ হাসান মাহিনকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি সৈয়দ হাসান জুবায়েরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে মাহিনকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। এ আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যায় মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে সোহাগের ওপর একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে ঘিরে ধরে পাথর ও কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে থেঁতলে এবং কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই ঘটনায় নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তী তদন্তে কোতোয়ালি থানা পুলিশ গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তবে প্রথম তদন্তে ত্রুটি থাকায় আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ১০ মে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, যেখানে প্রধান আসামি মাহিনসহ ২১ জনকেই অভিযুক্ত হিসেবে রাখা হয়। বর্তমানে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটির বিচার ও সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নিহতের বোনের আদালত দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে আসে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র। তিনি জানান, হামলাকারীরা সোহাগকে মারধরের একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে মাথার ওপর ভারি কংক্রিটের বোল্ডার ফেলে হত্যা নিশ্চিত করে। এমনকি মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশের ওপর দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসীরা উল্লাস প্রকাশ করে। আলোচিত এই মামলায় ২১ জন আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে, ৮ জন পলাতক এবং মাহিনসহ ৩ জন জামিনে রয়েছেন।
