হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাগেজ অব্যবস্থাপনা ও চরম যাত্রী ভোগান্তির প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হয়রানির শিকার হয়ে সাধারণ নাগরিক ও প্রবাসীরা প্রতিবাদ জানালে উল্টো মামলার মুখোমুখি হতে হবে—এটাই কি সরকারের তথাকথিত গণতন্ত্র?”
বিবৃতিতে ডাকসু ভিপি বলেন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়া সত্ত্বেও শাহজালাল বিমানবন্দরের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা বর্তমানে চরম অব্যবস্থাপনায় মাছের বাজারের রূপ ধারণ করেছে। সেখানে যাত্রী ও রেমিট্যান্সযোদ্ধা প্রবাসীদের প্রতিনিয়ত পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। লাগেজ পেতে দীর্ঘ বিলম্ব, লাগেজ ভেঙে জিনিসপত্র চুরি যাওয়া এবং ট্রলি সংকট এখন যাত্রীদের জন্য নিত্যদিনের চরম যন্ত্রণা। এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো যেখানে আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে, সেখানে বাংলাদেশের এই হযবরবর অবস্থা চরম ব্যর্থতার নামান্তর।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সাদিক কায়েম বলেন, তিনি কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার জন্য নয়, বরং বিমানবন্দরে নিয়মিতভাবে হয়রানির শিকার হওয়া হাজারো সাধারণ যাত্রীর ন্যায়সংগত দাবির পক্ষে সোচ্চার হয়ে আওয়াজ তুলেছিলেন। তিনি যথার্থই প্রশ্ন তুলেছিলেন—যে কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে সামান্য ট্রলি সমস্যার সুরাহা করতে পারে না, তারা কীভাবে নতুন বোয়িং কেনাকাটার বড় বড় পরিকল্পনা করে?
বিবৃতির শেষাংশে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাধারণ প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের যাত্রী ভোগান্তি দূর করার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো প্রতিবাদের জেরে মামলা ঠুকে দিয়ে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। নাগরিক অধিকার রক্ষা ও সেবার মান বাড়ানোর পরিবর্তে সাধারণ জনগণের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ডাকসু ভিপি।







