স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের মে মাসে ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ‘মীর আকতার হোসেন লিমিটেড’-এর মালিক মীর জহির হোসেনের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাঁকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে ৪ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে অন্য একটি দুর্নীতি মামলায় তাঁর মোট ১৩ বছরের সাজা হয়েছিল।
এছাড়া চকরিয়ায় মাছের ঘের দখলের দুটি মামলা থেকেও তিনি পরবর্তীতে খালাস পান এবং একে ন্যায়বিচার হিসেবে দাবি করেন। বিএনপির অনেক নেতাই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুদকের মামলা থেকে খালাস পেয়ে এসবকে রাজনৈতিক হয়রানি বলে অভিহিত করছেন। তবে সম্প্রতি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করার ঘটনার পর সরকারের সমালোচকদের টার্গেট করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ পাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রীয় কল্যাণে যদি ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়, তবে সব এমপি-মন্ত্রী ও তাঁদের নিকটাত্মীয়দের হিসাবও প্রতি বছর তলব করা উচিত।
হলফনামা ও সম্পদের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৮ সালে সাজার কারণে সালাহউদ্দিন আহমেদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদ প্রার্থী হন। ওই সময় এই দম্পতির মোট সম্পদ ছিল ৬.৩ কোটি টাকা, যা ২০১৮ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১২.৭ কোটি এবং ২০২৫ সালে পৌঁছায় ৩০ কোটি টাকায়। ২০ বছর আগেই তিনি গুলশানের বিলাসবহুল ‘প্লাটিনাম রেসিডেন্স’-এ কোটি টাকার ফ্ল্যাট কেনেন এবং গুলশানে তাঁর আরও সম্পদ রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ ১৯৯৬ সালে চাকরি ছাড়ার সময় মাসে প্রায় ৬ হাজার টাকা বেতন পেতেন। এর পর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত বিএনপি বিরোধী দলে ছিল এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে দুই বছর কারাগারে থাকার পর বিএনপি পুনরায় বিরোধী দলে যায়। ফলে সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিমন্ত্রী পদে থাকা অবস্থায় ব্যবসা করার সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এবং কোন আয়ের উৎসে এই বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্পদের স্বচ্ছতার পাশাপাশি তাঁর সন্তানদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার পেছনে ব্যয় করা বিপুল অর্থের বৈধ উৎস ও অর্থ পাঠানোর মাধ্যম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণের আগের ও পরের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, একই ধারায় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
