জামালপুরের ইসলামপুরে মোছা. মঞ্জুরা খাতুন (২৮) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় নিহতের স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোকজন এবং উপজেলা যুবদলের এক নেতাসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে নিহতের মা রিনা খাতুন বাদী হয়ে ইসলামপুর সিআর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত ইসলামপুর থানার ওসিকে অপমৃত্যুর (ইউডি) ঘটনার সার্বিক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নিহতের স্বামী সুজন মিয়া, দেবর লোকমান ও লুৎফর, শাশুড়ি ছুরভানু এবং ইসলামপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর আগে শেরপুর সদর উপজেলার আহাম্মদ আলী মোল্লার মেয়ে মঞ্জুরার সঙ্গে ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের সুজন মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মঞ্জুরার ওপর বিভিন্ন অজুহাতে নির্যাতন চালানো হতো এবং গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে নিজ বাড়িতে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে যুবদল নেতা হামিদুর রহমান মলিনসহ অন্য আসামিরা মরদেহ ব্রহ্মপুত্র নদে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। খবর পেয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় ইসলামপুর থানা পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা হামিদুর রহমান মলিন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, পুলিশের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারে সহযোগিতা করেছিলেন তিনি। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করায় রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কুচক্রী মহল তাঁকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে।
এ বিষয়ে ইসলামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ফাঁসে ঝুলে গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহ উঠানে পায়। সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও গলায় ফাঁসের দাগ রয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
