রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর রামদা, চাপাতি ও হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতাদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসলেও এর দায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর চাপিয়েছেন রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। ঘটনার জন্য ছাত্রশিবিরকে অভিযুক্ত করার পাশাপাশি বিষয়টিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি’ দাবি করে সংগঠনের পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
হামলার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রাহী দাবি করেন, সাংবাদিক ও ছাত্রদলের যৌথ সম্পর্কে ফাটল ধরাতে ও দূরত্ব তৈরি করতে ছাত্রশিবির গভীর চক্রান্ত করছে। সাংবাদিক সমাজকে জাতির বিবেক ও ছাত্রদলের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, রাবি ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের গায়ে হাত তুলবে না। তবে অস্ত্রধারী নেতাকর্মীদের সুনির্দিষ্ট ভিডিও ফুটেজের বিষয়ে তিনি কোনো প্রত্যক্ষ ব্যাখ্যা দেননি।
এদিকে হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব সামাজিক মাধ্যমে বিপরীত সুর তুলে আক্রান্ত সাংবাদিকদের ‘গুপ্ত শিবির’ আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রক্টর বা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিকারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে ধরতে গেলে সাংবাদিক পরিচয়ে একদল ‘গুপ্ত শিবির ছানা’ তাঁদের প্রতিহত করতে এলে সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কেবল পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।
ঘটনার বিবরণে প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন, রাত ৮টার দিকে পরিবহন মার্কেট থেকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মিছিল নিয়ে জিয়াউর রহমান হলে আসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে পেশাগত দায়িত্বে ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন ছাত্রদল কর্মীরা। তবে এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি।
উক্ত হামলায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ্জামান কোরবান, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল, দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু ও আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলামসহ একাধিক গণমাধ্যমকর্মী গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমের নেতৃত্বে অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী এই সশস্ত্র হামলায় সরাসরি অংশ নেন।
